দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বসছে শ্রম বেচা-কেনার এক অনন্য হাট যা স্থানীয়ভাবে কামলার হাট নামে পরিচিত। প্রতিদিন ভোরে উপজেলার আমতলা মোড়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিক জড়ো হন। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায় কেউ কোদাল ডালি বা ভাঁড় নিয়ে আবার কেউ খালি হাতেই কাজের অপেক্ষায় বসে আছেন।
বর্তমানে এই হাটে একজন নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা যা বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে অত্যন্ত নগণ্য। আদিবাসী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী শ্রমিকদের আধিক্য এখানে বেশি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনির বিনিময়ে প্রাপ্ত এই মজুরি দিয়ে অনেকেরই সংসার চলছে না।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন ধান ভুট্টা বা আলু রোপণের মৌসুমে কাজের চাপ বেশি থাকলে মজুরি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। তবে সেই সুদিন থাকে মাত্র অল্প কিছু সময়। কৃষি কাজ কমে গেলে শ্রমিকের তুলনায় কাজের চাহিদা কমে যায় ফলে বাধ্য হয়েই নামমাত্র মূল্যে নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে হয় তাদের।
সাধুর বাজার এলাকা থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব কল্পনা রানী জানান তার দুটি কিডনিতে অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং স্বামীও অসুস্থ। মেয়ের পড়াশোনার খরচ যোগাতে না পেরে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন তিনি। একই উপজেলার সুন্দইল গ্রামের দলুয়া রায় জানান গত দুই যুগ ধরে তিনি এই হাটে আসছেন। তার মতে বর্তমানে এক কেজি মোটা চালের দাম ৬০ টাকা এবং এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২০০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে সারাদিন খেটে প্রাপ্ত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কাহারোলের এই আমতলা মোড়ে প্রতিদিন আট থেকে দশ কিলোমিটার দূর থেকে শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে আসেন। কাজ পেলে তাদের মুখে হাসি ফোটে আর না পেলে অভুক্ত অবস্থায় ফিরে যেতে হয় পরবর্তী দিনের অপেক্ষায়। অনেক নারী শ্রমিক এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
তারা মনে করেন নারী প্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এই কার্ডের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হলে তাদের জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে প্রান্তিক পর্যায়ের এই শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার এই শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

